February 21, 2008

ডিসেম্বর'০৭ সংখ্যার সম্পাদকীয়

সবিনয় নিবেদন

প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় ‘সিডর’ তাণ্ডবে [১৫ নভেম্বর’০৭] অসংখ্য মানুষের প্রাণহানীতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত।
যুগপূর্তি সংখ্যা প্রকাশ করতে পেরে আমরা আনন্দিত এই অর্থে যে আমরা প্রকাশনাটিকে সচল রাখতে পেরেছি। এই দীর্ঘ পথপরিক্রমায় যাঁরা আমাদের পাশে থেকেছেন, বিভিন্ন ভাবে সহায়তা দান করেছেন বিশেষতঃ পরামর্শক, লেখক, পাঠক, বিজ্ঞাপনদাতা, বন্ধু ও শুভানুধ্যায়ী। মূলতঃ যা কিছু কৃতিত্ব তার সবকিছু তাঁদেরই প্রাপ্য। তাঁদেরকে আমাদের অশেষ কৃতজ্ঞতা।
একটি সাহিত্য পত্রিকা প্রকাশের লক্ষ্য অর্জনে তথা রুচিশীল বা নান্দনিক পাঠক ও নতুন লেখক সৃষ্টিতে কতটা সফল হতে পেরেছি তা নিশ্চিত করে বলা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। এর সফলতা ও ব্যর্থতার সঠিক মূল্যায়ন একমাত্র সহৃদয় পাঠকই করতে সক্ষম। শুধু এটুকু বলতে পারি, সীমিত পরিসর ও নানা সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও বাংলাভাষাভাষী লেখক ও পাঠকের উভয় বাংলায় সমন্বিত একটি উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলাম। শিল্প-সাহিত্যের রসধারায় লক্ষ শহীদের রক্তস্নাত বাংলাদেশের মাটিকে প্লাবিত করতে এবং সমাজ জীবনের আঁধার ঘুচাতে কৌশল হিশেবে সংস্কৃতির এই পল্লবিত ধারাটিকেই বেছে নিয়েছি। গৌতম বুদ্ধ বলেছেন, ‘নিজেই নিজের প্রদীপ হও’, এবং ‘কাজ করে যাও, নীরবে।’ আমরা মোমবাতির শিখাটিকে প্রজ্বলিত রাখার চেষ্টা করেছি,মনের আনন্দে ভালোবেসে কাজ করেছি - ‘ইহার ভবিতব্য কি হইবে তাহা জানি না।’
নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য, চাল, ডাল, আটা, কাপড়, কাগজ, কালি, মুদ্রণ’র মূল্য বৃদ্ধিতে জনজীবন বিপর্যস্ত ও অসহায়। রাজনৈতিক দেউলিয়াপনার ফলে মূল্যবোধের চরম অবক্ষয়, দেশপ্রেমহীনতা, ঘুষ, দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও বিশ্বব্যাপী জঙ্গিবাদের উত্থান বিগত দশকে এই উপমহাদেশকে করেছে চরম অস্থিতিশীল ও নিয়ন্ত্রণহীন। বলা বাহূল্য বাংলাদেশও তা থেকে মুক্ত তো নয়-ই বরং কোন কোন ক্ষেত্রে আলোর উৎসমুখ গাঢ় অন্ধকারে আচ্ছাদিত প্রায়।
শিল্পী, সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক কর্মীর জন্মই যেন নিজকে বিলিয়ে দেয়া, আলোর পথযাত্রী হওয়া।
রবীন্দ্রনাথ বলেছেন,
‘....সত্য যে কঠিন,
কঠিনেরে ভালোবাসিলাম-
সে কখনো করে না বঞ্চনা...।’
এবং তাঁর বাণীতে আমাদের পূর্ণ আস্থাঃ
‘ঐ মহামানব আসে...।’

0 comments:

Post a Comment