১
প্রিয় জাহিদ
শান্তিনিকেতনে গিয়েছি; তোমার বইটি বেশ কয়েক পাতা পড়ার পর মনে হলো আমি এখন রয়েছি শান্তিনিকেতনে।
শান্তিনিকেতনে আমি গিয়েছি একটা আবেগ নিয়ে। আবেগাক্রান্ত হয়েই দেখতে চেষ্টা করেছি একটি মানুষ জীবনের বিশেষ বিশেষ মুহূর্ত, ভালোলাগা ভালোবাসা ও বাসনাগুলোকে মূর্ত করে তোলার জন্যে কী সাধনাই না করেছেন। আমি শান্তিনিকেতনে গিয়েছি, সত্যিই বলছি, মোহাচ্ছন্ন হয়ে।
তোমার লেখায় মোহ আছে, তবে যেটুকু পড়েছি, বুঝতে পেরেছি যারা কোনোদিন ওখানে যায়নি, তারা একটা চমৎকার ছবি লাভ করবে। এই ছবি লিখতে গিয়ে তুমি বাহুল্যের আশ্রয় নাওনি, কথার মারপ্যাঁচে পাঠককে ধাঁধায় ফেলনি, তথ্য এবং তথ্য দিয়ে জানিয়েছ: এটাই শান্তিনিকেতন।
রঙিন ছবিগুলো স্মৃতিকে আবার জাগিয়ে দিলো।
ভালো থেকো।
বইটি অচিরেই শেষ করবো।
রশীদ ভাই [রশীদ হায়দার]
৩০.১০. ০৭
পুন: তুমি গভীর মনোযোগ দিয়ে শান্তিনিকেতন দেখেছো এবং সে সম্পর্কে লিখেছো , সেটাই আমাকে আনন্দ দিয়েছে।
অভিনন্দন।
২
প্রতিজনাব জাহিদ আনোয়র
সম্পাদক ‘অঞ্জলি লহ মোর’
বিদ্যাসুন্দর
২৯ শহীদ মামুন পৌর মার্কেট [২য় তলা]
কাছারী রোড, নওগাঁ - ৬৫০০
বাংলাদেশ।
প্রীতিভাজনেষু
জাহিদ ভাই,
প্রথমেই আপনি আর ‘অঞ্জলি লহ মোর’ পত্রিকার সকল সদস্য ও শুভাকাঙ্খীরা আমার আন্তরিক শ্রদ্ধা, ভালবাসা ও নমস্কার জানবেন।
আমার জনৈক সাহিত্যসেবী বন্ধু [একদা পূর্বতন পূর্ববঙ্গ নিবাসী] শ্রীনরেন্দ্র- নাথ বিশ্বাস আমাকে আপনাদের অতীব মূল্যবান পত্রিকাটি পড়তে দিয়েছেন। আমার জন্ম অবিভক্ত ভারতের রাজশাহী শহরের রাণীবাজার মহল্লায় ১৯৩৬ সালের ৩ ডিসেম্বর তারিখে। ১৯৪৪ সালে দার্জিলিং শহরে আমার বাবার কর্র্মস্থলে চলে এলেও ১৯৪৭ সালের মার্চ মাস অবধি রাজশাহীতে যাতায়াত করেছি। রাণীবাজার মহল্লায় আমাদের পৈত্রিক ভদ্রাসন ছিলো এবং ঐখানেই আমার জন্ম। সামান্য কিছুদিন বিশ্বেশ্বর ভোলানাথ আকাডেমিতে পড়েছি। আমার বাবা রাজশাহী পৌরসভায় কর-আদায় বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মচারী ছিলেন। রাণীবাজারে আমাদের একটি দ্বিতল বাড়ি ছিলো এবং একটি মার্বেল পাথরে ‘বৃন্দাবনধাম’ [আমার পিতামহের নাম] খোদিত ছিলো। সে সব এখন স্মৃতি। এখন আমার স্মৃতিতে সাগরপাড়া, টিকাপাড়া, বড় কুঠি, পদ্মার-পাড়, রাজশাহী কলেজ চত্বর, সিপাই পাড়া, বরেন্দ্র অনুসন্ধান যাদুঘর, সাহেব বাজারের বড় মসজিদ, লোকনাথ স্কুল, অলকা সিনেমা হল, কল্পনা সিনেমা হল, তালাইমারী শ্মশানঘাট, ঘোড়ামারা পোস্ট অফিস, ভুবন মোহন পার্ক, সাহেব বাজারে ভুজঙ্গভূষণ কুণ্ডুর বই এর দোকান সব কিছুই জ্বলজ্বল করছে।
আমার লেখা অনেক ছোটগল্পে রাজশাহীর কথা ঘুরে ফিরে এসেছে বারবার। আজ প্রায় একাত্তর বছর বয়সে সব কিছুই চোখের সামনে ভাসছে। একবার ১৯৪৬ সালের শেষে নওগাঁ হয়ে নৌকোয় করে কালিগ্রাম থানার অধীনে পতিসর সংলগ্ন [?] ভারসোঁ গ্রামে গিয়েছিলাম আমার ছোট মেশোমশাই এর বাড়িতে। তিনি ভারসোঁ গ্রামের জমিদার ছিলেন [বড় তরফ]। পতিসরে ঠাকুরবাড়ির কাছারির সংলগ্ন একটি ‘ধর্ম গোলা’ দেখেছিলাম মনে পড়ে। তালন্দর জমিদাররা আর পুঁটিয়ার জমিদারদের সঙ্গে একটা আত্মীয়তার গন্ধ ছিলো। পাবনায় শিতলাইএর জমিদার যোগেন্দ্রনাথ মৈত্রর বাড়িতে পুজোর সময়ে যাতায়াত ছিলো।
ভাই সাহেব এক নাগাড়ে কতো কথাই লিখে ফেললাম। ধৈর্যচ্যুতি ঘটলে মাফ করে দেবেন। আপনার নিজের হাতের লেখা একটা পোস্টকার্ডের চিঠি পেলেও ভালো লাগবে। বড়ো আশা করে চিঠিটা লিখলাম।
লতিফ দাদার কথা খুব মনে পড়ে। কেমন নিশ্চিন্তে আমাদের দু’ভাইকে তার কাছে ছেড়ে দিতেন বাড়ির কর্তারা। রহিম চাচাকে আমার কর্তামা [ঠাকুর মা] ‘রাম’ নামে ডাকতেন ও পুষ্যি নিয়েছিলেন এবং জলপাইগুড়িতে চলে এসেছিলেন। সেই চাচা একদিন নামকরা হোমিওপ্যাথিক ডাক্তার হয়ে জলপাইগুড়ি শহরেই আমার কর্তামার কাছেই থেকে গিয়েছিলেন। তাঁকে আমরা দেখেছি যে আমার বিধবা কর্তামা নিজে হাতে ভাত খাইয়ে দিয়েছেন। সেসব দিনগুলো কোথায় যে চলে গেলো জানিনা আপনারা প্রাণভরা ভালোবাসা নেবেন।
ইতি
অরুণ মৈত্র
আমার এখন স্থায়ী নিবাস পশ্চিম বাংলার উত্তর ২৪ পরগণা জেলার বারাকপুর মহকুমার নৈহাটি শহরের পৌর এলাকায়। আমি একজন অবসরপ্রাপ্ত W.B.C.S. আধিকারীক। এখন লেখালেখি নিয়েই আছি।
৩
মাননীয় সম্পাদক,
‘অঞ্জলি লহ মোর’ তারিখ ২২. ৬. ০৪
কাছারী রোড,নওগাঁ সোনারপুর
বাংলাদেশ
পত্র পাঠ নমস্কার জানবেন। নমস্কার জানাচ্ছি। ‘অঞ্জলি লহ মোর’ এর সকলস্তরের কর্মী, শুভানুধ্যায়ী ও বন্ধুদের।
ঠিকানাঃ আমি সুজিত হালদার। প্রযত্নে: সুনীল দত্ত, ২৩ সুকান্ত সরণি, কামরাবাদ, মন্দিরতলা, থানাঃ সোনারপুর, কলকাতা - ৭০০১৫০,পশ্চিমবঙ্গ, ভারত।
একথা বলাই বাহুল্য যে আপনারা আমাকে চেনেন না। ইতিমধ্যে আমার নামও শোনেন নি। আর আমাকে চেনা বা জানার তেমন কোন কারণও ঘটেনি। তো, সে সব কথা থাক। ‘অঞ্জলি লহ মোর’ এর ৮ম বর্ষ, ১২ সংখ্যা [জানুয়ারি-জুন ২০০৩] আমি পড়েছি । পত্রিকা এবং ওই সংখ্যার লেখাগুলোর বিষয়ে বিশেষ কিছু বলার আগে এই বিশেষ সংখ্যাটি কী করে আমার হাতে এলো - সে বিষয়ে দু’এক কথা বলতে চাই।
২০০৪ সালের কলকাতা বই মেলায় আমি ‘গল্পের বাড়ি’ [ন্যাশনাল বুক ট্রাস্ট, ইন্ডিয়া] এর লেখক সমম্বয় ও অনুষ্ঠান চালানোর দায়িত্ব পেয়েছিলাম। যদিও আমি এন.বি.টি, [ন্যাশনাল বুক ট্রাস্ট, ইন্ডিয়া] এর কর্মী নই । আমি তখন ‘কলেজ স্ট্রীট’ পত্রিকার বিশেষ দায়িত্বে ছিলাম। এন.বি.টি, - এর অরুণ দা [অরুণ চক্রবর্তী] আমাকে অস্থায়ীভাবে ওই [বই মেলার জন্য] কাজে নিয়োগ করেছিলেন।
বইমেলা [কলকাতা বইমেলা - ২০০৪] চলাকালিন ‘অঞ্জলি লহ মোর’- এর সম্পাদক জাহিদ আনোয়ারের সঙ্গে আমার আলাপ হয়, এবং জাহিদ’দা আমাকে এক কপি ‘অঞ্জলি লহ মোর’ এর ৮ম বর্ষ ১২ সংখ্যাটি উপহার দেন। সত্যিকথা বলতে কী, এতদিন ওই সংখ্যাটি পড়ার সময় বা সুযোগ হয়নি। তাছাড়া, বইমেলা চলাকালিন আমি আরও অনেক পত্রিকা উপহার পেয়েছি। কলকাতার কলেজ স্ট্রীট কফি হাউজ এর বন্ধুরাও প্রায় কোন না কোনও পত্রিকা বা বই উপহার দেন। কাজেই সব পত্রিকা বা বই সঙ্গে সঙ্গে পড়া হয়ে ওঠে না। ওই একই কারণে ‘অঞ্জলি লহ মোর’- এর এই সংখ্যাটি এতদিন অপঠিতই ছিল।
বাস্তবিক,‘অঞ্জলি লহ মোর’- এর ৮ম বর্ষ, ১২ সংখ্যা পড়ে আমি ঋদ্ধ হয়েছি। এটা যে একটা সম্পূর্ণ এবং আদর্শ ক্ষুদ্র পত্রিকার উদাহরণ -সে বিষয়ে আমার কোনও প্রকার সন্দেহ নেই। উল্লেখ্য, লিটল ম্যাগাজিন এর বাংলা-‘ক্ষুদ্র পত্রিকা’-এটা আমাদের এখানে [পশ্চিমবঙ্গ, ভারত] অনেকেই বলেন। আমিও।
বাংলাদেশ এর মহানগর ঢাকা’র বাইরে থেকে যে এমন সুন্দর এবং উন্নতমানের পত্রিকা প্রকাশিত হয়, তা আমার জানা ছিল না। সেটা নেহাত আমার অজ্ঞতাই বলতে পারেন। ১১২ পৃষ্ঠার এই সংখ্যায় প্রকাশিত প্রবন্ধ [৩], আত্মস্মৃতি [৪], গল্প [৫], কবিতা [১৬ জন কবি], নিবন্ধ [২], কথোপকথন [১], সমালোচনা [১] গুলি পড়লাম।
প্রতিটি লেখাকে আলাদা করে আলোচনা করলাম না। তবুও বলি, রহমান আতিক এর ‘ভেড়া উপাখ্যান’ নামের গল্পটি অনবদ্য হয়েছে। ৪১ পৃষ্ঠায় ইলাহী দাদ খান এর স্মৃতিচারণমূলক লেখাÑ‘আছ অন্তরে চিরদিন’ পড়ে আমারও বুকটা ভারী হয়ে গেল। আমার অদেখা-অজানা কর্মবীর প্রয়াত গোলাম মোস্তাফার [লেখকের ছোট বোনের স্বামী] প্রতি আমার শ্রদ্ধা জানালাম। রবু শেঠ এর সমালোচনামূলক লেখা ‘অঞ্জলি লহ মোর’ ‘চৈতন্যের একাদশ অধ্যায়’ এর থেকে কয়েকটি লাইন উদ্ধৃতি দিয়ে আমি শেষ করব- - -।।
‘অঞ্জলি লহ মোর’ এমন সময়ে বের হচ্ছে যখন পৃথিবী জুড়ে সন্ত্রাস-মৌলবাদের উত্থান ভয়াভয়। গর্বের কথা এখন পর্যন্ত কোন শিল্পী, সাহিত্যিক, কবির নাম সন্ত্রাসীর তালিকায় নেই। একজন শিল্পী সন্ত্রাসীর কাছে এখনও আতঙ্কের কারণ---।’
নমস্কারান্তে :
সুজিত হালদার
২৩ সুকান্ত সরণি, মন্দিরতলা, কামরাবাদ, সোনারপুর, কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত


0 comments:
Post a Comment