জলগদ্য
হরিশংকর জলদাস
হরিশংকর জলদাস
আষাঢ় মাসকে খ্যাতিমান করেছেন মহাকবি কালিদাস। সে সংস্কৃত সাহিত্যে। ‘মেঘদূত’ কাব্যে তিনি লিখেছেনÑ‘আষাঢ়স্য প্রথমদিবসে মেঘমাশ্লিষ্ট সানুং/ বপ্রক্রীড়াপরিণতগজ প্রেক্ষণীয়ং দদর্শ’। সেই থেকে শিক্ষিতজনের কাছে আষাঢ় মাস যেন বেদনা জাগানিয়া মাসে রূপান্তরিত হয়েছে। আর শ্রাবণ তো বাঙালির কাছে বেদনার মাসই। এই মাসে রবীন্দ্রনাথের তিরোধান-২২শ্রাবণ। আষাঢ়-শ্রাবণ নিয়ে যে বর্ষাকাল, তা বাঙালির সাহিত্য-সংস্কৃতিতে বারবার ঘুরে ফিরে এসেছে। শিক্ষিত ভদ্রজনের কাছে এ দুটো মাস এক ভাবে মূল্যবান; কিন্তু প্রান্তজনের কাছে এ দুটো মাস অন্য অর্থ বহন করে। এরা এদের কাছে জীবনায়নের মাস। চাষার কাছে যেমন, জেলের কাছে তেমনি। হাইল্যা এবং জাইল্যা-এ দু’সম্প্রদায়ের প্রাণভোমরা লুকিয়ে আছে আষাঢ়-শ্রাবণে। ভাত এবং মাছ-এ দুটোর উৎপাদক চাষী ও জেলে। দুটোই বাঙালির প্রধান খাদ্য। কিন্তু প্রধান এই খাদ্য সররাহকারীরা ভদ্রজনের অবহেলার পাত্র। তাঁরা রেগে গেলে এই দুই সম্প্রদায়ের নাম তুলে গালি দেন। বলেনÑলোকটার ব্যবহার হাইল্যার মতন, জাইল্যার মতন ব্যবহার করছ কেন? ইত্যাদি ইত্যাদি।
চাষা এবং মেছো- এরা তথাকথিত শিক্ষিত সমাজে তিরস্কৃত হলেও বাঙালি সমাজকাঠামোর প্রধানতম খুঁটি এরা। এদের নিয়ে ভাবনার প্রয়োজন আছে। জেলেরা জলপুত্র। জলের খেয়াল-খুশিতেই এদের বাঁচা-মরা। জলাশয়ে জল ফুরিয়ে গেলে এদের নিদানের শুরু, আর জলধার যৌবনবতী হয়ে উঠলেই এদের জীবনে সুদিন আসে।
জলের ঋতু বর্ষাকাল। আষাঢ়-শ্রাবণÑজলের আধার। বর্ষার সঙ্গে জড়িয়ে আছে জেলেদের হাসি-কান্না আর স্বাছন্দ্য। জেলেদের প্রধানতম পুজো-উৎসব আষাঢ়-শ্রাবণকে ঘিরেই আবর্তিত। মা-গঙ্গা, মা-মনসা তাদের প্রধান দেবী। মা-গঙ্গা তাদের অন্নদাত্রী আর মা-মনসা তাদের রক্ষাকর্ত্রী এটাই তারা বিশ্বাস করে মনে প্রাণে। মা-গঙ্গা মৎস্যের দেবী, জলশস্যরা তাঁর নিয়ন্ত্রণাধীন, তাঁরই ইচ্ছায় মাছেরা চলাফেরা করে। তিনি ইচ্ছে করলে দরিদ্র বলরাম জলদাসকে হাজারপতি করতে পারেন, আবার নিকুঞ্জবিহারীর মাছধরার নৌকা জলে ডোবাতে পারেন। তাই তিনি প্রণম্য ধীবর সম্প্রদায়ের কাছে। আর মনসা, তিনি সর্পের দেবী। তারই ইঙ্গিতে বেহুলার স্বামী মরে সর্প্রাঘাতে। সর্প জলজ প্রাণী, জেলেরা জলচারী। তাই সর্পদেবীর সঙ্গে বিরোধ নৈব নৈব চ। মনসা জেলেদের ভীতিমূলক শ্রদ্ধা পান।
এই দুই প্রবলপ্রতাপী দেবীর সন্তুষ্টির জন্যে জেলেরা দুটো মাসকে নির্ধারণ করেছে। আষাঢ় মাসে গঙ্গাপুজো আর শ্রাবণ মাসে মনসাপুঁথিপাঠ।
মূলত, জলের অনিশ্চিত জীবনে ভাসতে ভাসতে তারা নদী-সমুদ্রের বিচিত্র খেয়ালের হদিস পায় না। হদিস না পেয়ে ভীত হয় আর তখন অবিশ্বাসের কাছে মাথা নত করে। তাদের বিশ্বাসের তালিকায় উঠে আসে জিনপরী, মেছোপেত্নী, দক্ষিণরায় বা বনবিবি, পীরবাবাদের অলৌকিক শক্তি। এরই পথ ধরে তাদের জীবনে এসেছে মা-গঙ্গা, এসেছেন স্বার্থপর সর্পদেবী মনসা। গাঙজননী ও সর্পদেবীর অনুগ্রহ-নিগ্রহ সম্পর্কিত গল্পগাথাগুলোতে আছে জেলেজীবনের ভিত্তিভূমি। এছাড়া নানা প্রথাগত লোকজ সংস্কারে আবদ্ধ কৈর্বতদের জীবনবৃত্ত। নৌকা নিয়ে সমুদ্রযাত্রা করার দিনক্ষণ পাঁজি দেখে স্থির করে। নৌকা ছাড়ার সময় পাঁচ পীর বদরগাজীর ধ্বনি দেয়। যাত্রার সময় কচ্ছপ দেখাকে অলক্ষণ বলে বিশ্বাস করে তারা। দিনের প্রথমে নৌকায় ওঠেই তারা গাঙজল দিয়ে গলুই ধুয়ে দেয় এবং গাঙজননীর উদ্দেশে প্রণাম জানায়। মৎস্যশিকারী জেলেরা সর্বদা মা-গঙ্গার নাম স্মরণ করে।
আষাঢ় মাসের প্রথম দিকে জেলেরা মা-গঙ্গার পুজো দেয় ঘটা করে। এটা সর্বজনীন পুজো। নির্বিশেষে তারা এ পুজোয় চাঁদা দেয়। বামুন ঠাকুর পাঁজি খুলে তিথি-নক্ষত্র দেখে পুজোর আয়োজন করে তারা। সকাল থেকেই বামুন ঠাকুর পুজো নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। কয়েক জন এয়োস্থি জেলে নদী বামুনকে কাজে সাহায্য করে। সমুদ্রকূলে উত্তরমুখি করে মাটির একটি বেদি তৈরি করা হয়। সেই বেদির ওপর মাটির একটি ঘট বসানো হয়; তার ওপর রাখা হয় ডাঁটাসুদ্ধ আস্ত নারকেল ও আম্রপল্লব বেদির পেছনে পোঁতা হয় একটি বাচ্চা কলাগাছ। ঘটের সামনে কলাপাতার ওপর সাজানো হয় সাগু-চিনি কলা-আম-কাঁঠাল-কমলা,আখ প্রভৃতি সহযোগে নৈবেদ্য। পুজোর সামনে গভীর শ্রদ্ধার জ্বালানো হয়। ধূপ-মোমবাতি। জেলে পাড়ার সবাই এই পুজোয় সামিল হয়।
গঙ্গাপুজোর প্রধান আকর্ষণ পাঁঠাবলি। মা-গঙ্গার সন্তুষ্টির জন্যেই এই বলি। মা-গঙ্গা অদৃশ্যমান হলে কী হবে, তার সন্তুষ্টির আয়োজনটা হয় জবর। ইয়া বড় পাঁঠাকে স্নান করানো হয়। কপালে দেয়া হয় সিঁদুরের ফোটা, গলায় পরানো হয় ফুলের মালা। যে কেউ পাঁঠা বলি দিতে পারে না। এজন্যে দরকার সাহস ও শক্তি। প্রত্যেক জেলে পাড়ায় এরকম হিম্মতওয়ালা লোক থাকে দু’একজন। বলির আগের রাতে তারা শুদ্ধাচারী থাকে। বলি না দেয়া পর্যন্ত তারা উপবাসী থাকে। সকালে স্নান করে নতুন ধুতি পরে তারা। জোরে গাঁজা টেনে উন্মাতাল হয়ে খড়গ তুলে নেয় হাতে।
পুজোর সময় বহদ্দাররা নতুন জামা কাপড় পরে বিনীত ভাবে পুজো-মণ্ডপে অবস্থান করে। মনের কালিমা মন থেকে যথাসম্ভব ঠেলে বার করে দেয়। তারা বিশ্বাস করে হিংসাহীন মানুষের ওপর মা-গঙ্গার আশীর্বাদ বর্ষিত হবে অঝোর ধারায়। বলির পাঁঠাকে নিয়ে আসা হয় হাঁড়িকাঠের কাছে। বামুন ঠাকুর ছাগলের কপালে চন্দনের ফোঁটা দিতে দিতে উচ্চারণ করেনÑ
‘ওঁ গণেশায় নম:, ওঁ গঙ্গায় নম:. . . .।’
হাঁড়িকাঠে ছাগলের গলা ঢুকিয়ে দিলে ঘাতক ‘জয় মা-গঙ্গা’ বলে খড়গ তোলে। ছোট ছোট ছেলেমেয়ে আর নারীরা দু’হাত দিয়ে চোখ ঢাকে, ছাগলের মাথা দূরে গড়ায়, প্রচণ্ড খিঁচুনিতে ধরটা অস্থির থাকে বেশ কিছুক্ষণ।
পুজোর স্থান থেকে দূরে জলের ধারে সার সার একগাছি নৌকা বাঁধা থাকে। নৌকার গায়ে আলকাতরার গভীর ছোপ। আগা ও পাছায় থাকে নানা রঙের পত্র-ফুলের অঙ্কন। গভীর বিশ্বাসে জল পুত্ররা নৌকার আগায় মানুষের দুটো চোখ আঁকে। গভীর সমুদ্রে এই চোখ দুটোই নিজ মালিকের জাল খুঁজে নেয়।
গঙ্গাপুজো শেষে জেলেনারীরা বা কুলায় পঞ্চপ্রদীপ জ্বালিয়ে নৌকাগুলোর কাছে যায়। উলুধ্বনি দিতে দিতে কৌটা থেকে ডান হাতের মধ্যমা দিয়ে সিঁদুর তুলে নেয়। নৌকার আগায় আগায় টিপ দিতে দিতে বলে Ñ
‘অ মা গঙ্গা! তুঁই আঁরার মিক্কে ইক্কিনি ফিরি চাইও।
তুঁই আঁরার জীবন, তুঁই আঁরার মরণ। তুঁই দয়া গড়ি
আঁরার সোয়ামিরে বেশি মাছ নো দিলে পোয়াছা
লই উয়াস থাইক্যম। মা গঙ্গা, আঁরারে দয়া গইজ্যো।
আইয়েদ্যে বছর যে-ন আঁরা আবার তোঁয়ার এই রইস্যা
গড়ি পুজো দিত পারি।’
এর পর কয়েকটি শুভদিনে জলপুত্ররা নৌকাগুলো নিয়ে মাছ ধরতে বেরিয়ে পড়ে। ঝড়-জলের আষাঢ়ের দিনগুলো ফুরোতে থাকে। রাতে সমুদ্র ফুঁসে ওঠে। এসবকে অবহেলা করে জীবনবাজি রেখে জলপুত্ররা জল-অভিযান অব্যাহত রাখে। তাদের জীবন থেকে ধীরে ধীরে দারিদ্র্যের লাঞ্চনার দাগ মুছতে শুরু করে। মা- গঙ্গার দয়ায় তাদের জাল ভরে যায় নানা রকম জলশস্যে। লইট্যা, ইলিশ, ফাঁইস্যা, করকইজ্যাইচা, সুন্দরী, পোপা, ফাঙ্গাস, অলুয়া, রিশ্শা, ঘোড়া, ইত্যাদি মাছে নৌকার খোল ভরে ওঠে।
আসে শ্রাবণ মাস। জেলেদের জীবনে এ মাস সুখ আনে, স্বস্তি আনে। আষাঢ়-শ্রাবণ-ভাদ্র-আশ্বিনÑএই চার মাসে জলপুত্রদের হাঁড়িতে ভাত থাকে, পরনে নতুন কাপড় থাকে, মুখে থাকে তৃপ্তির হাসি। শ্রাবণ মাসেই তারা মগ্ন হয় মনসা পুজোয়। গোটা শ্রাবণ মাস ধরে মনসা পুজো চলে প্রতিটি জেলের ঘরে ঘরে। মন্দির অথবা ঘরের কোণায় মাটির বেদিতে মাটির ছোট্ট জলভর্তি কলসি বসানো হয়। সেই ঘটে থাকে বাঁশপাতা ও বাসকপাতা। প্রতিদিন নানা রকম নৈবেদ্য দিয়ে মনসার প্রতীক এই ঘটের সামনে পুজো দেয় জেলে নারীরা। মনসাকে জেলেনারীদের বড় ভয়। তাদের পুত্র-স্বামী জলে জলে ঘুরে বেড়ায়। সেখানে বাস করে বিষধর সর্প। আর সর্প মনসা আজ্ঞাবহ। তাই মনসাকে তৃপ্ত রাখতে মাসব্যাপী মনসার পুজো দেয় জেলেপতœীরা।
প্রতিরাতে মনসাপুঁথি পাঠ হয়Ñএর বাড়ি ওর বাড়ি। কোনোদিন সুবলদের উঠানে আবার! কোনোদিন অন্নচরণের দাওয়ায়। পুঁথিপাঠের সঙ্গে থাকে বিচ্ছেদ গান। হারমোনিয়াম, জোরখাই, কাঁসার আওয়াজে গোটা জেলেপাড়া জুড়ে নিবিড় মাদকতা সৃষ্টি হয়। বৈরাগী ঢুইল্যা খুব সুন্দর জোরখাই বাজায়। দীনবন্ধু যখন হারমোনিয়ামে রাধা-বিচ্ছেদের সুর তোলে,শ্রোতার চোখে জল আসে। মনসা পুঁথিপাঠের আসর বসে গোলাকার হয়ে। চারদিকে অন্নচরণ, জগবন্ধু, তারিণীচরণ, মুরালীরা বসে। নারীরা বসে একটু দূরে, পুরুষের চোখ এড়িয়ে। সন্ধ্যে নামতেই গৃহস্থালি কাজ সেরে নেয় এরা। কাইমপতি, ধনকুমারী, গোলকেশ্বরী, সরলা, চরণদাসী, শ্যামতারারা ঘেঁষাঘেঁষি করে বসে।
মনসা পুঁথিপাঠের প্রধান আকর্ষণ নাউট্যাপোয়া। শ্রাবণ মাসের জন্যে নাউট্যাপোয়াদেরকে ভাড়ায় আনা হয়। ভাড়া মাসে ৪০০/৫০০ টাকা। শরীর খারাপ না করলে প্রতিরাতের পুঁথিপাঠের আসরে তাকে নাচতে হয়। বয়স তাদের ১৪/১৬। বন্দর, বুরুমচরা, করল, কোলা প্রভৃতি গ্রাম থেকে নাউট্যাপোয়াদের আনা হয়। মেয়েদের পোশাক পরে, মুখে কড়া পাউডার মেখে, বুকে মেকি স্তন লাগিয়ে আসরে ঘুরে ঘুরে নাচে তারা। প্রত্যেক জেলে পল্লীতে কিছু স্মার্ট তরুণ থাকে, তাদেরকে বলে ছাণ্ডাপোটা। এরাই নাউট্যাপোয়ার দেখভাল করে।
পুঁথিপাঠের আসরে ঢুইল্যারা কাঁধে ঢোল নিয়ে উঠে দাঁড়ায়। ঢোলে দু’হাতে বোল তোলে। মুখে তাক-ধিনা-ধিন-তাক। ধীরে ধীরে ঢোলোর আওয়াজ বড় হয়। সঙ্গে হারামোনিয়ামের মৃদুলয়। লাউট্যা পোয়া আসরের মাঝখানে এসে দাঁড়ায়। হাত জোর করে বন্দনাগীতি শুরু করে -
‘শত নমস্কার আমার শত নমস্কার,
অধীনে গান করে সভার মাঝার।
আমার শত নমস্কার।’
বন্দনাগীতি শেষে লাউট্যাপোয়া ঝুম-ঝুমা-ঝুম আওয়াজ তুলে নাচতে শুরু করে মহিলা মহলে গা টেপাটেপি শুরু হয়। পাতনী বুড়ি বলে ওঠে Ñ‘কী সোন্দর নাচরে বাজি। নাচ দেই এই বয়সতও বুক গান খালি খালি লাআর।’
পাড়ার সর্দাররা আসরের সামনের দিকে বসে মুখে গাম্ভীর্য, চোখে অপার কৌতূহল। নাউট্যাপোয়া নাচতে নাচতে কখনও এর কোলে বসে, কখনও ওর গায়ে উদ্ধতস্তনের ধাক্কা দেয়। বয়স্ক কারো গলা জড়িয়ে ধরে চুমু খাওয়ার চেষ্টা করলেই আসরে হাসির ধুম পড়ে যায়। রসিকজনেরা টাকার নোট নাউট্যাপোয়ার উদ্দেশে আসরে ছুঁড়ে মারে। এই টাকা সে হাতে তুলে নেয় না। নাচের তালে তালে কোমর বাঁকিয়ে চিৎ হয়ে মুখ দিয়ে সে টাকা তুলে নেয়। দর্শকদের মধ্যে তারিফের ধ্বনি ওঠে। আসর গরম হয়ে ওঠে। তখন, যখন নাউট্যাপোয়া কারো মুখের কাছে গিয়ে হাঁটুর ওপর শাড়ি তুলে সামনে পিছনে দোলা খেতে খেতে নাচে।
আসর ভাঙার পর যে যার ঘরে চলে যায়। তখন নাউট্যাপোয়াকে ঘিরে ছাণ্ডাপোয়াদের হল্লা পড়ে। এসব তরুণদের দেহ শীতল করে নাউট্যাপোয়ারা। গানে-কামে-আনন্দে-রিরংসায় শ্রাবণ মাসে জেলে পল্লী সরগরম থাকে।
বর্ষা শেষে জেলেপাড়ায় নেমে আসে অভাবের জান্তব থাবা। পরবর্তী আটটি মাস পিষ্ট হতে থাকে তারা। দারিদ্র্যময় জীবন কাটাতে কাটাতে অপেক্ষা করে পরবর্তী বর্ষাকালের জন্যে।
এই জেলে সমাজে ক্ষুদ্রতার অভাব নেই। হিংসা-বিদ্বেষ এই সমাজকে কুরে কুরে খায়। দলাদলিতে কখনো কখনো রক্তারক্তিও ঘটে। এতসবের পরেও তারা একত্র হয় গঙ্গাপুজো, মনসাপুঁথিপাঠের আসরে। এই সকল পুজো-পার্বন প্রান্তিক এই জনগোষ্ঠীকে এখনো একই সূত্রে গেঁথে রেখেছে।


0 comments:
Post a Comment