July 24, 2008

দ্বিশততম জন্মবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি

দ্বিশততম জন্মবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি
হেনরী ভিভিয়ান ডিরোজিও



ডিরোজিও ১৮০৯ খ্রিস্টাব্দে কলিকাতা ইন্টালী পদ্মপুকুরের সন্নিহিত মামলালীর দরগা নামক এক ভবনে জন্মগ্রহণ করেন। ইনি জাতিতে পোর্তুগীজ বংশোৎপন্ন ফিরিঙ্গী। ইহার পিতা জে. স্কট কোম্পানির সওদাগরী অফিসে একটি বড় কর্ম করিতেন। ইহার আর দুই ভ্রাতাও দুই ভগিনী ছিলেন। ডিরোজিওর পিতা সচ্ছল অবস্থাতে ফিরিঙ্গী সমাজে সম্ভ্রমের সহিত বাস করিতেন। কিন্তু সে সময়ে ফিরিঙ্গী সমাজে বালকগণ সৎশিক্ষার অভাবে প্রায় বিকৃত হইয়া উঠিত। ডিরোজিওর জ্যেষ্ঠ সহোদর ফ্রাঙ্ক কুসঙ্গে পড়িয়া বিপথে পদার্পণ করে; এবং সকল কর্মের বাহির হইয়া যায়। দ্বিতীয় ক্লাডিয়সকে পিতা শিক্ষার্থ স্কট্লণ্ডে প্রেরণ করিয়াছিলেন। তাহার পরের সংবাদ জানি না। প্রথমা ভগিনী সোফিয়া ১৭ বৎসর বয়সে গতায়ু হন। সর্বকনিষ্ঠা এমিলিয়া ডিরোজিওর প্রতি বিশেষ অনুরক্তা ও সকল বিষয়ে তাঁহার উৎসাহদায়িনী ছিলেন।
সে সময়ে ডেভিড ড্রামন্ড [David Drummond] নামে একজন স্কট্লন্ডদেশীয় লোক কলিকাতার ধর্মতলাতে একটি স্কুল খুলিয়াছিলেন। এই ড্রামন্ড সেই সময়ে একজন বিখ্যাত ব্যক্তি ছিলেন। তাঁহার রচিত কবিতাসকল সে সময়ে অনেকের দৃষ্টি আকর্ষণ করিয়াছিল। তিনি ইংরেজী সাহিত্য এবং দর্শনশাস্ত্রেও সুপণ্ডিত ছিলেন। এরূপ শুনা যায় যে ধর্মবিষয়ে আত্মীয়স্বজনের সহিত মতভেদ উপস্থিত হওয়াতে তিনি চিরদিনের মত জন্মভূমি পরিত্যাগ করিয়া এদেশে আসিয়াছিলেন। যে স্বাধীন চিন্তার প্রভাবে ফরাসী বিপ্লবের অভ্যুদয়, সেই স্বাধীন চিন্তা পূর্ণমাত্রায় তাঁহার অন্তরে কার্য করিতেছিল। ড্রামন্ড বিদ্যালয়ের দ্বার উদঘাটন করিলে কলিকাতাবাসী ইংরেজগণ বলিতে লাগিলেন, সেখানে পড়িলে বালকগণ নাস্তিকতাতে বর্দ্ধিত হইবে। এই ভয়ে অনেকে স্বীয় স্বীয় বালককে তাঁহার বিদ্যালয়ে প্রেরণ করিতেন না। ডিরোজিওর পিতামাতা সে ভয় করিলেন না। বালক ডিরোজিও সেই স্কুলে ভর্ত্তি হইলেন।
ড্রামন্ডের প্রতিভার একপ্রকার জ্যোতি ছিল যাহাতে তিনি বালকদিগের চিত্তাকর্ষণ করিতে পারিতেন এবং স্বীয় হৃদয়ের ভাব তাহাদের হৃদয়ে ঢালিয়া দিতে পারিতেন। তাঁহার সংস্রবে আসিয়া বালক ডিরোজিওর প্রতিভা ফুটিয়া উঠিল। চতুর্দশ বর্ষ বয়ঃক্রমকালে তিনি পাঠ সাঙ্গ করিয়া বাহির হইলেন। বাহির হইয়া কিছুদিন তাঁহার পিতার অফিসে কেরানীগিরি কর্মে নিযুক্ত থাকিলেন। তৎপরে কিছুদিন ভাগলপুরে তাঁহার এক মাসীর ভবনে বাস করেন। তাঁহার মাসী উইলসন নামক একজন নীলকর ইংরেজকে বিবাহ করিয়াছিলেন। ভাগলপুরে থাকিবার সময় বালক ডিরোজিও একাকী গঙ্গাতীরে বেড়াইতেন; এবং কবিতা রচনা করিতেন। তদ্ভিন্ন তাঁহার জ্ঞানস্পৃহা এমনই প্রবল ছিল যে, সেই অল্প বয়সে ইংরেজী সাহিত্য ও দর্শন সম্বন্ধীয় উৎকৃষ্ট সমুদয় গ্রন্থাবলী আগ্রহের সহিত পাঠ করিতেন।
সে সময়ে ডাক্তার গ্রান্ট [Dr. Grant] নামে একজন ‘ইন্ডিয়া গেজেট’ [India Gazette] নামে একখানি সংবাদপত্র বাহির করিতেন। ঐ পত্রে ডিরোজিওর লিখিত কবিতা ও প্রবন্ধ সকল বাহির হইত। শুনিতে পাওয়া যায় সুবিখ্যাত জার্মান দার্শনিক ইমানুয়েল কান্টের গ্রন্থ প্রকাশিত হইলে ডিরোজিও তাহার এক সমালোচনা বাহির করিয়াছিলেন, তাহা দেখিয়া সে সময়কার পণ্ডিতগণ বিস্মিত হইয়া গিয়াছিলেন। তাহাতে এমন প্রখর ধীশক্তি ও স্বাধীন চিন্তার পরিচয় পাওয়া গিয়াছিল যে, সকলেই অনুভব করিযাছিলেন যে, লেখক একজন সামান্য ব্যক্তি নহেন। ভাগলপুরে বাসকালে ডিরোজিও যে সকল কবিতা লিখিয়াছিলেন তন্মধ্যে Fakir of Jhungeera নামক কবিতাই সুপ্রসিদ্ধ। ভাগলপুরের সন্নিকটে নদীগর্ভস্থিত ঝঙ্গীরা নামক এক অরণ্যময় আশ্রমে এক ফকির বাস করিতেন। তাঁহার আশ্রমকে উদ্দেশ্য করিয়াই ডিরোজিও উক্ত কবিতা রচনা করিয়াছিলেন। এই কবিতা প্রকাশিত হইলে, তদানীন্তন শিক্ষিত ইংরাজ ও বাঙ্গালী সমাজে ডিরোজিওর কবিত্ব-খ্যাতি প্রচার হইয়া গেল। ১৮২৮ খ্রিস্টাব্দে ডিরোজিও তাঁহার কবিতাপুস্তক মুদ্রিত করিবার জন্য কলিকাতাতে আসেন। সেই সময়ে হিন্দু কলেজে একটী শিক্ষকের পদ খালি হয়; স্কুল কমিটি সেই পদে ডিরোজিওকে নিযুক্ত করেন। ১৮২৮ সালের মার্চ মাসে তিনি ঐ পদে প্রতিষ্ঠিত হন।
ডিরোজিও চতুর্থ শ্রেণীর সাহিত্য ও ইতিহাসের শিক্ষক হইলেন বটে, কিন্তু চুম্বক যেমন লৌহকে আকর্ষণ করে তেমনি তিনিও অপরাপর শ্রেণীর বালকদিগকে আকৃষ্ট করিলেন। তিনি স্কুলে পদাপর্ণ করিবামাত্র বালকগণ তাঁহার চারিদিকে ঘিরিত। তিনি তাহাদিগের সহিত কথা কহিতে ভালবাসিতেন। স্কুলের ছুটি হইয়া গেলেও অনেকক্ষণ বসিয়া তাহাদিগের পাঠে সাহায্য করিতেন এবং নানা বিষয়ে তাহাদের সহিত কথোপকথন করিতেন। তাঁহার কথোপকথনের এই রীতি ছিল যে, তিনি এক পক্ষ অবলম্বন করিয়া বালকদিগকে অপর পক্ষ অবলম্বন করিতে উৎসাহিত করিতেন এবং স্বাধীনভাবে তর্কবিতর্ক করিতে দিতেন। এইরূপে বালকগণের স্বাধীন চিন্তাশক্তি বিকাশ হইতে লাগিল। তিনি কেবল স্কুলের ছুটির পর বালকদিগের সহিত কথোপকথন করিয়া তৃপ্ত হইতেন না; তাহাদিগকে আপনার বাড়িতে যাইতে বলিতেন। সেখানে তাহাদিগের সহিত বয়স্যভাবে মিশিতেন, নিজের জননী ও ভগিনী এমিলিয়ার সহিত তাহাদিগের পরিচয় করিয়া দিতেন এবং বিধিমতে আতিথ্য করিতেন। রামগোপাল ঘোষ, দক্ষিণারঞ্জন মুখোপাধ্যায়, মহেশচন্দ্র ঘোষ, প্রমুখ কতিপয় বালক ডিরোজিওর ভবনে সর্বদা যাতায়াত করিত। একদিনের ঘটনা লাহিড়ী মহাশয়ের মুখে শোনা গিয়াছে। একবার তিনি রামগোপাল ও দক্ষিণারঞ্জনের সহিত ডিরোজিওর ভবনে গিয়াছিলেন। সেখানে পূর্বোক্ত দুই জনে তাঁহাকে চা খাইবার জন্য পীড়াপীড়ি করিয়া ধরিলেন। তিনি কুলীন ব্রাহ্মণের সন্তান। ফিরিঙ্গী বাড়িতে চা খাইবেন, ইহা কি হইতে পারে? সুতরাং তিনি অস্বীকৃত হইলেন। দক্ষিণারঞ্জন অনুরোধ করিয়া সন্তুষ্ট না হইয়া বলপ্রয়োগ করিতে প্রবৃত্ত হইলেন। তখন লাহিড়ী মহাশয় চিৎকার করিবার উপক্রম করাতে সে যাত্রা রক্ষা পাইলেন। সকলে বুঝিতেই পারিতেছে ডিরোজিওর ভবনে হিন্দু কালেজের অগ্রসর বালকদিগের হিন্দুসমাজ-নিষিদ্ধ পান-ভোজনের অভ্যাস হইয়াছিল।
এই সময়কার আর একটী ঘটনা লাহিড়ী মহাশয় উল্লেখ করিয়াছেন। কেবল যে ডিরোজিওর ভবনে কালেজের বালকদিগের সম্মিলন হইত তাহা নহে। দক্ষিণারঞ্জনের উদ্যোগে অপরাপর ইউরোপীয়দিগের ভবনেও মধ্যে মধ্যে বালকদের নিমন্ত্রণ হইত। সে সময়ে হাবড়াতে রেভারেন্ড হাউ Rev. Hough নামে একজন খ্রিস্টীয় প্রচারক বাস করতেন। রামমোহন রায়ের বন্ধু আডামের সাহায্যে হাউ মহোদয়ের ভবনে একদিন বালকদিগের সম্মিলন হয়। তাঁহার কন্যা, কুমারী হাউ, দক্ষিণারঞ্জন আসিয়া কানে কানে বলিলেন, ‘ইংরাজ সমাজের এই নিয়ম যে ভদ্রমহিলারা কিছু আহার বা পান করিতে দিলে, তাহা আহার বা পান না করা অসভ্যতা, অতএব পান না কর, একবার ওষ্ঠাধরে স্পর্শ করাও।’ লাহিড়ী মহাশয় অনিচ্ছাসত্ত্বেও তাহাই করিলেন। এই রূপে কালেজের ছাত্রগণের মধ্যে সুরাপানের দ্বার উন্মুক্ত হইয়াছিল।
কিরূপে প্রথম ইংরাজী-শিক্ষিত দলে সুরাপান প্রবেশ করিয়াছিল তাহার একটু ইতিবৃত্ত আছে। সে সময়ে সুরা পান করা কুসংস্কার-ভঞ্জনের একটা প্রধান উপায়স্বরূপ ছিল। যিনি শাস্ত্র ও লোকাচারের বাধা অতিক্রমপূর্বক প্রকাশ্যভাবে সুরাপান করিতে পারিতেন, তিনি সংস্কারকদলের মধ্যে অগ্রগণ্য ব্যক্তি বলিয়া পরিগণিত হইতেন। স্বয়ং রাজা রামমোহন রায় পরোক্ষভাবে সুরাপান শিক্ষা বিষয়ে সহায়তা করিয়াছিলেন। তাঁহার এই নিয়ম ছিল যে, তিনি রাত্রিকালে বন্ধুগণ সমভিব্যাহারে টেবিলে বসিয়া ইংরাজী রীতিতে খানা খাইতেন। ইহা হইতে এদেশীয় কোনও কোনও ধনী পরিবারে রাত্রিকালে খানা খাইবার রীতি প্রবর্তিত হইয়াছিল। রাত্রিতে ভোজন করিবার সময় রামমোহন রায়ের পরিমিতরূপে সুরা পান করিবার নিয়ম ছিল। তাঁহাকে কেহ কখনও পরিমিত সীমাকে লঙ্ঘন করিতে দেখে নাই। এ বিষয়ে তাঁহার প্রখর দৃষ্টি ছিল। এরূপ শোনা যায় একবার একজন শিষ্য কৌতুক দেখিবার নিমিত্ত প্রবঞ্চনা-পূর্বক তাঁহাকে এক গ্লাস অধিক সুরা পান করাইয়াছিলেন বলিয়া তিনি ছয় মাস কাল তাহার মুুখ দর্শন করেন নাই।
রাজা বোধ হয় এ কথাটা চিন্তা করিয়া দেখেন নাই যে, যাহা তাঁহার পক্ষে পরিমিত-সীমার মধ্যে রক্ষা করা সুসাধ্য ছিল, তাহা অপরের পক্ষে সর্বনাশের কারণ হইতে পারে। পরবর্তী সময়ে ইহার যথেষ্ট প্রমাণ পাওয়া গিয়াছে। এই সুরাপান নিবন্ধন আমরা অনেক ভাল ভাল লোক অকালে হারাইয়াছি। যাহা হউক, যে সময়ে কথা বলিতেছি সে সময়ে সুরাপান করা কুসংস্কারহীন সংস্কারকদিগের একটা প্রধান লক্ষণ হইয়া দাঁড়াইয়াছিল। ভক্তিভাজন রাজনারায়ণ বসু মহাশয়ের মুখে শুনিয়াছি, যখন তিনি হিন্দু কলেজে পাঠ করেন এবং তাঁহার বয়ঃক্রম ১৬/১৭ বৎসরের অধিক হইবে না, তখন তিনি সুরাপান করতে শিখিয়াছিলেন। তাঁহার পিতা নন্দকিশোর বসু রামমোহন রায়ের একজন শিষ্য ছিলেন। নন্দকিশোর বসু মহাশয় একদিন শুনিলেন যে, তাঁহার বন্ধুদের সঙ্গে মিশিয়া কখনও কখনও অতিরিক্ত সুরাপান করেন। তখন তিনি একদিন রাজনারায়ণবাবুকে গোপনে ডাকিয়া জিজ্ঞাসা করিলেন-‘তুমি কি মদ খাও?’ তিনি বলিলেন-‘হ্যাঁ।’ তখন তাঁহার পিতা আলমারি খুলিয়া একটি বোতল ও একটি মদের গ্লাস বাহির করিলেন, এবং কিঞ্চিৎ সুরা ঢালিয়া পুত্রকে পান করিতে দিলেন এবং নিজে একটু পান করিলেন। বলিলেন-‘যখনি সুরাপান করিবে তখনি আমার সঙ্গে পান করিবে, অন্যত্র পান করিবে না।’ তাঁহার সঙ্গে পান করিলে সন্তান সর্বদা পরিমিত সীমার মধ্যেই থাকিবে, বোধ হয় এইরূপ চিন্তা করিয়াই ও প্রকার বলিয়া থাকিবেন। যাহা হউক, এতদ্বারা বুঝা যাইতেছে সে সময়কার সংস্কার পথে অগ্রসর ব্যক্তিগণ সুরাপানকে হীন চক্ষে দেখিতেন না। সুতরাং ডিরোজিওর শিষ্যগণ অপরাপর দিকে অগ্রসর হওয়ার ন্যায় সুরাপান বিষয়েও যে অগ্রসর হইয়াছিলেন, তাহা কিছুই আশ্চর্য্যরে বিষয় নয়।
ডিরোজিওর সংস্রবে আসিয়া হিন্দু কলেজের ছাত্রগণের মনে মহাবিপ্লব ঘটিতে লাগিল। তিনি তাহাদিগকে লইয়া একাডেমিক এসোসিএশন [Academic Association] নামে একটি সভা স্থাপন করিলেন। তিনি তাহার সভাপতিত্ব করিতেন এবং তাঁহার শিষ্যদল প্রধান বক্তা হইত। এই সভা বঙ্গদেশের সামাজিক ইতিবৃত্তের একটি প্রধান ঘটনা। ইহার বিশেষ বিবরণ পর পরিচ্ছেদে দেওয়া যাইবে।
কালেজের বালকগণের মধ্যে যে নব অগ্নি জ্বালিয়া উঠিল, যে নবজীবনের সঞ্চার হইল, তাহা নানাদিকে প্রকাশ পাইতে লাগিল। লাহিড়ী মহাশয় যখন তৃতীয় শ্রেণীতে উঠিলেন, তখন ডিরোজিওর শিষ্যগণ একত্র হইয়াদঅঃযবহরঁস’ নামে একটি মাসিক ইংরাজী পত্রিকা বাহির করিলেন। প্রচলিত হিন্দুধর্মকে আক্রমণ করা ইহার এক প্রধান কাজ ছিল। এই পত্রে মাধবচন্দ্র মল্লিক নামে একজন ছাত্র লিখিলেন `If there is anything that we hate from the bottom of our heart, it is Hinduism‘যদি হৃদয়ের অন্ত-স্তম তল হইতে কিছুকে ঘৃণা করি, তবে তাহা হিন্দুধর্ম।’ এরূপ শুনিতে পাওয়া যায়, ঐ পত্রিকার দুই সংখ্যা বাহির হইলেই ডাক্তার উইলসন তাহা বন্ধ করিয়া দিলেন।
[উৎকলিত: রামতনু লাহিড়ী ও তৎকালীন বঙ্গসমাজ।। শিবনাথ শাস্ত্রী।]

0 comments:

Post a Comment