July 24, 2008

‘বড় ঘরের মেয়ে’

‘বড় ঘরের মেয়ে’
মূল : প্রেমচন্দ
অনুবাদ : জাফর আলম।

[প্রেমচন্দের জন্মদিন ১৮৮০ সালে ভারতের বারানসী থেকে ৬ মাইল দূরে লাহামি গ্রামে। মৃত্যু ১৯৩৬ সালে বারানসীতে। প্রথম জীবনে তিনি উর্দু ভাষায় পরবর্তী কালে উর্দু ও হিন্দী উভয় ভাষায় লিখেছেন। উর্দু ছোট গল্প ছিল কল্পনা নির্ভর কল্পকাহিনীতে ভরা প্রেমচন্দই প্রথম বাস্তবধর্মী উর্দু গল্প ‘কাফন’ রচনা করেন। ‘কাফন’ উর্দু ছোট গল্পে মাইল ফলক। প্রেমচন্দ সর্ব প্রথম হিন্দী ও উর্দু-গল্প উপন্যাসে দেশের নিপীড়িত মানুষের সমস্যার কথা তুলে ধরেন। তাঁর রচিত উপন্যাস বারোটি এবং লিখেছেন প্রায় তিনশ ছোট গল্প। তাঁর রচিত উপন্যাস ‘গোদান’ একালের শ্রেষ্ঠ উপন্যাস হিশেবে স্বীকৃত।]


গৌরীপুরের জমিদার ছিলেন ঠাকুর বেণী মাধব। তাঁর পূর্ব পুরুষ এক সময় খুবই বিত্তশালী ছিলেন। বড় বড় দাঁতালা হাতি একদা তার বাড়ির সদর দরজায় শোভা পেতো। কিন্তু আজ সে জাঁকজমক নেই। আজ সেখানে দুয়ারে শীর্ণকায় গরু দাঁড়িয়ে আছে। গরুটি কিন্তু দুধাল, তাই সর্বদা একজন না একজন লোক পাশে দাঁড়িয়েই থাকে।
সম্পতির অর্ধেকেরও বেশি বেণী মাধব সিং উকিলদের পেটে গেছে। এখন তাঁর বার্ষিক আয় মাত্র এক হাজার টাকা। তাঁর দুই ছেলে শ্রীকান্ত ও লাল বিহারী। শ্রীকান্ত গ্রাজুয়েট, এলাহাবাদে চাকরি করে। লাল বিহারী ছিল আহ্লাদে ছেলে, দৈনিক দুধ খায় দুই সের। শ্রীকান্ত রোগে স্বাস্থ্য হারিয়ে বেশ রোগা হয়ে গেছে। তাই টোটকা ঔষধ এবং হাকিমী চিকিৎসায় তার অগাধ আস্থা। লাহোর কোলকাতার চিকিৎসকদের সাথে তার চিঠিপত্র আদান-প্রদান চলে।
শ্রীকান্ত ইংরেজী শিক্ষিত কিন্তু বিলেতি কায়দা-কানুনের ঘোর বিরোধী। তাই গ্রামের লোকজন তাকে বেশ খাতির করতো। প্রাচীন হিন্দু ধর্মের উপর তার অগাধ বিশ্বাস। একান্নবর্তী পরিবারের প্রশ্নে সে একজন জোর সমর্থক। আধুনিক মহিলাদের পরিবার থেকে পৃথক থাকার অভ্যাসকে সে ক্ষতিকর মনে করতো। তার এই গোঁড়ামির জন্য সে তার বৌ ও পাড়ার বৌ-ঝিরা তার উপর ক্ষিপ্ত। সকলে তার নিন্দায় মুখর।
শ্রীকান্তের স্ত্রী আনাদী অভিজাত পরিবারের মেয়ে। তার বাবা ভূপ সিং ছোট খাট জমিদার। দু’তলা বাড়ি, একটি হাতি, তিনটি কুকুর, কতকগুলো শিকারি বাজ অনারারী ম্যাজিস্ট্রেটগিরি-এ হ’ল তার বিষয় সম্পত্তির নমুনা। কিন্তু এর মাঝে তার প্রচুর দেনা ছিল। তার সাতটি মেয়ে কোন পুত্র-সন্তান নেই। তিনটি মেয়েকে ধুমধামের সাথে বিয়ে দিয়েছে। তার এখন দেনার পরিমাণ বিশ হাজারের কোটায় গিয়ে পৌঁছেছে। আনন্দী তার চতুর্থ মেয়ে। তার বিয়ে নিয়ে তার বাবার চিন্তার অন্ত ছিল না। আনন্দী ছিল তার বাবার অত্যন্ত প্রিয় কন্যা।
একদিন শ্রীকান্ত ভূপ সিং এর কাছে চাঁদা চাইতে আসে। তাকে দেখে ও তার ব্যবহারে ভূপ সিং অত্যন্ত আনন্দিত, মনে মনে তাকে জামাই করার সিদ্ধান্ত নিয়ে নেন। কিন্তু শ্বশুর বাড়িতে বিয়ের পর এসে দেখলো, এখানকার পরিবেশ সম্পূর্ণ ভিন্ন। বাড়ির মেঝেতে মোজাইক নেই, জানালা নেই, দেয়ালে আয়না নেই এবং বাড়ির সামনে বাগানও নেই যেখানে জরির সেন্ডেল পরে পায়চারি করা যায়। অবশ্য তাড়াতাড়ি আনন্দী এই পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নিয়ে, নিজ বাড়ির বিলাসিতার কথা ভুলেই গেল।
একদিন লালবিহারী দুটো ঘুঘু এনে বৌদিকে বললো, সুরুয়া রাঁধতে হবে। আনন্দী চটপট সেরে নিলো, ঘি যা ঘরে ছিল সব মাংসেই শেষ করলো। ডালে আর ঘি দেয়া গেল না। লালবিহারী খেতে বসে দেখে ডালে ঘি নেই আর চিৎকার করে বলল, ‘ডালে ঘি দাওনি কেন?’
আনন্দী জবাব দিল, ‘নেই তাই দিতে পারিনি। মাংসেই সব ঘি দেয়া হয়েছে।’
লালবিহারী রেগে আবার বলল ,‘পরশু ঘি এসেছে এর মধ্যেই শেষ।’
লালবিহারী আরও বললো ‘তোমার বাড়িতে বুঝি ঘি আর মাখনের ছড়াছড়িÑতাই না?’
বিবাহিত মেয়েরা সব কিছু সহ্য করতে পারে কিন্তু বাপের বাড়ির উল্লেখ করে তিরস্কার সহ্য করতে পারে না। আনন্দী রেগে জবাব দিল, ‘আমার বাপের বাড়ির চাকর নফররাও দৈনিক আধ সের ঘি খায়। ’
লালবিহারী রেগে হিতাহিত জ্ঞান হারালো-খাবার থালাটা উঠোনে ছুঁড়ে ফেলে বললো, ‘সাবধান, তোমার জিহ্বা টেনে বের করবো।’ আনন্দী ও চুপ থাকেনি জবাব দিল,’ তোমার দাদাকে ডেকে আনোÑদুভাইয়ে মিলে টেনে বের করতে সুবিধা হবে।’
লালবিহারী ধৈর্য হারিয়ে নিজের স্ত্রীকেও প্রহার করেছে। পা থেকে খড়ম খুলে নিয়ে সে আনন্দীর দিকে ছুঁড়ে মারে। আনন্দী পিছিয়ে যাওয়ায় তার মাথাটা রক্ষা পেলো কিন্তু হাতে গুরুতর আঘাত পেলো। রাতে কাঁপতে কাঁপতে নিজের ঘরে গিয়ে প্রবেশ করলো। স্বামীর ইজ্জত রক্ষার্থে আনন্দী নীরবে অপমান সহ্য করলো।
শনিবার শ্রীকান্ত বাড়িতে আসে। আনন্দী আর দেবর লালবিহারীর ঝগড়া হয়েছে বৃহস্পতিবার গত দু’দিন পানি পর্যন্ত স্পর্শ করেনি। স্বামীর আগমনের প্রতীক্ষায় ছিল। রাত দশটায় শ্রীকান্ত বাড়ি ফিরল।
কামরায় ঢুকতে যাচ্ছে তখন লালবিহারী বললে,‘দাদা বৌদিকে সাবধান করে দেবেন, নইলে বিশ্রী কাণ্ড ঘটে যাবে। বেণী মাধব সিং তাকে সমর্থন করে বললো, ঠিকই বলেছে লালবিহারী। বৌ-ঝিদের পুরুষদের মান্য করা উচিত।’
লাল বিহারী আবার বলল,‘উনি বড় ঘরের মেয়ে হলেও আমরাও ছোট নই কোন অংশে।’
শ্রীকান্ত বিব্রত বোধ করে বলল,‘ আগে ব্যাপার কি বলবে তো?’
লালবিহারী জবাব দেয় ‘আসলে আর কি হবে। অযথা উনি রাগ করে যাতা কাণ্ড করে বসলেন; আসলে আমাদের পরিবার সম্পর্কে তার সামান্য শ্রদ্ধাবোধও নেই।’
খাওয়া সেরে শ্রীকান্ত তার স্ত্রীর ঘরে প্রবেশ করলো। আনন্দী রেগে মুখ গোমড়া করে বসেছিল স্বামীকে দেখে বললো, ‘তুমি ভাল আছো তো?’
শ্রীকান্ত বললো ,‘আমি তো ভাল তবে তুমি দেখি সারা বাড়ি গরম করে তুলেছ।’
আনন্দী রেগে ঝাঁঝালো কণ্ঠে জবাব দিল, ‘ যে লোক তোমার কানে বাজে কথা বলেছে, তাকে হাতের কাছে পেলে মুণ্ডুটা ছিঁড়ে ফেলতাম।’
শ্রীকান্ত বলল,‘ আগে ঘটনা বলো তারপর রাগারাগি করো।’
আনন্দী উত্তর দিল, ‘কি আর বলবো তোমাকে? আমার কপাল পোড়া। যে পিওনের যোগ্য নয়, সে কিনা আমাকে খড়ম পিটা করলো।’ শ্রীকান্ত বললো, ‘আগে সব খুলে বলো নইলে আমি ঘটনার মাথা মুণ্ডু কিছুই বুঝছি না।’ আনন্দী আগাগোড়া ঘটনা বিস্তারিত বর্ণনা দিল। শ্রীকান্ত ঘটনা শুনে গম্ভীরভাবে বললো, ‘এতদূর বেড়ে গেছে।’ আনন্দী কেঁদে বুক ভাসালো। শ্রীকান্ত শান্ত স্বভাবের লোক। স্ত্রীর কান্না দেখে তারও রাগ হল। রাতে ঘুমুতে পারলো না। সকালে বাবার কাছে গিয়ে বলল, ‘এবাড়িতে আমার পক্ষে আর থাকা সম্ভব নয়, বাবা।’
শ্রীকান্ত অথচ এর আগে মা-বাবার সংসার থেকে পৃথক হওয়া নিয়ে বন্ধু-বান্ধবদের তিরস্কার করেছে। কিন্তু আজ নিজেই সে পৃথক হতে চাচ্ছে।
বেণী মাধব সিং একটু অবাক ,হলেন, বললেন, ‘কেন?’
শ্রীকান্ত জবাব দিল, ‘আমারও আত্মসম্মান আছে। আপনার বাড়িতে ন্যায় বিচার নেই। বিদেশে চাকরি করি। সপ্তাহে একবার বাড়ি আসি। আমার অনুপস্থিতিতে আমার স্ত্রীকে খড়ম পেটা করা হল অথচ আপনি নীরব। সংসারে কথাকাটাকাটি একটু হয়, কিন্তু এতবড় অত্যাচার আমি সইবো না।
বেণী মাধব নীরব। ছেলে তাঁকে অত্যন্ত মান্য করে কিন্তু আজ অন্য সুরে কথা বলছে। তা দেখে তিনি হতবাক। শুধু বললেন, ‘বাবা তুমি শিক্ষিত হয়েছো। কিন্তু এসব কি বলছো। বৌ-এর কথা নিয়ে হঠাৎ কিছু কর নাÑএভাবেই বৌয়েরা সংসার ভাঙে।’
শ্রীকান্ত আবার বলল, ‘ বাবা, আপনি জানেন, আমি বরাবর যৌথ পরিবারের সমর্থক। বন্ধুবান্ধবদের এব্যাপারে উপদেশ ও দিয়েছি। কিন্তু লালবিহারী আমার স্ত্রীকে যেভাবে অপমান করেছে; তা আমি বরদাস্ত করবো না। তার সম্মান রক্ষা করা আমার দায়িত্ব। আমি তাকে কিছুই বলবো না, যা করার নিজেই করবো।’
বেণী মাধব রেগে বললেন, ‘লালবিহারী তোমার ছোট ভাই ----- কোন দোষ করলে তুমি তার কান ধরে ----।’
শ্রীকান্ত জবাব দিল, ‘আমি তাকে ছোট ভাই বলে মনে করি না।’
বেণী মাধব বললেন, ‘তোমার স্ত্রী কি তোমাকে তাই পরামর্শ দিয়েছে?’
শ্রীকান্ত জবাব দিল, ‘সে যেহেতু ইতরের মতো ব্যবহার করেছে।’
বেণী মাধব ও শ্রীকান্ত দু’জনেই নীরব। বেণী মাধব লালবিহারীকে দোষী মানতে রাজি নন। এর মাঝে বাড়ির উঠোনে গাঁয়ের একদল লোক জড়ো হয়েছে হুঁকোয় টান দেয়ার জন্য। বেণী মাধবের পরিবারের গোলোযোগ জমে উঠেছে, প্রতিবেশী বৌ-ঝিরাও জুটেছে ঘটনা পর্যবেক্ষণ করার জন্য।
বেণী মাধব পাড়া পড়শিরা যাতে ঘটনা না জানতে পারে, তাই বেশিদূর আলাপ এগুতে দিলেন না। বরং বললেন, ‘তোমার সাথে আমার বিরোধ নেই। লালবিহারী অন্যায় করেছে, তাকে যা খুশি শাস্তি দিতে পারো।
শ্রীকান্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্রাজুয়েশন ডিগ্রী নিয়েছে কিন্তু অভিজ্ঞতা কম। তাই সে পিতার প্রস্তাব বুঝতে পারেনি বরং পৃথক হওয়ার সংকল্পে অটুট থাকলো।
বেণী মাধব আরও বললেন, যারা বুদ্ধিমান তারা নির্বোধের কথায় কাজ করে না। লালবিহারী পাজী। কিন্তু ছেলে মানুষ, তুমি জ্ঞানী। এবারকার মত তাকে ক্ষমা করা উচিত। কিন্তু শ্রীকান্ত নিজের জেদ ছাড়লো না। সে বললো,‘ এ বাড়িতে লালবিহারী থাকবে নতুবা আমি থাকবোÑদু’জন একসাথে থাকতে পারি না।’
দাদা ও বাবার মধ্যে যে আলাপ হচ্ছিল লালবিহারী আড়াল থেকে সব শুনেছে। দাদাকে সে দারুণ ভক্তি করে শ্রীকান্ত তাকে ভালবাসতো। কোনদিন কটু কথা পর্যন্ত বলেনি। সেবার গ্রামের কুস্তি প্রতিযোগিতায় লালবিহারী জিতেছিল তাই খুশি হয়ে শ্রীকান্ত মাঠে জন সমক্ষে ভাইকে বুকে জড়িয়ে ধরেছিল আর প্রতিযোগীদের মধ্যে টাকা বিতরণ করেছিল। দাদার মুখে এখন বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার কথা শুনে ভেঙে পড়ে।
রাগের মাথায় সে যা করেছে, তার জন্য অনুতপ্ত। বুদ্ধিটা তার কম কিন্তু দাদা যা বলেছে তা কিন্তু খুবই অমানুষিক। দাদা যদি তার দুর্ব্যবহারের জন্য দুটো চড় লাগাতো তাহলে সে কিছুই মনে করতো না। কিন্তু দাদা মুখই দেখবে না, একথা তার অসহ্য মনে হল। চোখ মুছে ভ্রাতৃবধুর দরজার সামনে এসে দাঁড়ালো, বাইরে থেকে বললো, ‘বৌদি আমি চলে যাচ্ছি। তোমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। ‘একথা বলে সে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠলো। লালবিহারী মাথা নিচু করে দাঁড়িয়েছিল, শ্রীকান্ত সেখানে এসে হাজির হল। লালবিহারীকে এড়িয়ে চলাই ছিল তার সংকল্প। কিন্তু আনন্দী স্বামীর কাছে নালিশ করার পর থেকে বেচারি লালবিহারীর জন্য তার মনে করুণার সঞ্চার হল। সে স্বপ্নেও কল্পনা করেনি। এ ব্যাপার নিয়ে এত হৈ চৈ হবে।
স্বামীকে সর্বদা সে শান্তশিষ্ট মনে করতো। অথচ সে এত রেগে যেতে পারে তা ভাবেনি এখন আনন্দীর ভয় হয় তাকে যদি এলাহাবাদ নিয়ে যায়। তাই লালবিহারী ক্ষমা চাওয়ায় সে কিছুটা স্বস্তির নিশ্বাস ফেললো। তারও দু’চোখে অশ্র“ দেখা দিল। স্বামীকে বললো, ‘ঠাকুরপো কাঁদছে।’
শ্রীকান্ত বললো, ‘কাঁদুক।’
আনন্দী বললো ‘ওকে ঘরে ডাকো । আমি তোমাকে ঘটনা খুলে বলে ভুল করেছি।’
শ্রীকান্ত জবাব দিল ‘কখনোও না।’
আনন্দী আবার বলল, ‘যদি না ডাকো তবে পরে অনুতপ্ত হবে। বেচারি সত্যিই অনুতপ্ত। এখন ফিরিয়ে না নিলে সে বাড়ি ছেড়ে চলে যাবেই।’
শ্রীকান্ত তার সিদ্ধান্তে অটল। লালবিহারী বাইরে থেকে হাঁক দিয়ে বললো,‘ বৌদি, দাদা যখন আমার মুখ দেখবে না, আমি চলে যাচ্ছি।’ সাথে সাথে আনন্দী ছুটে গিয়ে তার হাত চেপে ধরলো। লাল বিহারী অশ্রুসিক্ত নয়নে বললো, ‘না, বৌদি আমাকে যেতে দাও, বাধা দিও না।’
আনন্দী বলল, ‘কোথায় যাবে?’
লালবিহারী উত্তর দিল, ‘যেখানে কাউকে মুখ দেখাতে হবেনা।’
আনন্দী বলল, ‘আমি তোমাকে যেতে দেব না।’
লালবিহারী বলল, ‘আমি তোমাদের বাড়িতে থাকার যোগ্য নই।’
আনন্দী বলল,‘ কথা দাও, তুমি কোথাও যাবেনা।’
লালবিহারী আবার বলল, ‘দাদার যদি রাগ না পড়ে তা হলে?’
আনন্দী বলল, ‘আমি দিব্যি করে বলছি তোমার প্রতি আমার কোন রাগ নেই।’
শ্রীকান্তের রাগ কমলো। ঘর থেকে বেরিয়ে লালবিহারীকে বুকে জড়িয়ে ধরলো। তারপর দুই ভাইয়ে নীরবে কাঁদতে থাকল। লালবিহারী ফোঁপাতে ফোঁপাতে বললো, ‘দাদা আমাকে যা খুশি শাস্তি দাও। কিন্তু মুখ দেখবে না, একথা বলো না।’
শ্রীকান্ত কম্পিত গলায় বললো, ‘সব ভুলে যাও। ভগবান করুন যেন এমনি ঘটনা আর না ঘটে।’
ঠিক তখন ঘরে বেণী মাধব প্রবেশ করলেন। দুইভাইকে আলিঙ্গন বদ্ধ দেখে খুশি বললো, ‘আনন্দী বড় ঘরের মেয়ে তাই যা উচিত তাই করেছে। অন্যরা যা ভাঙে তুমি তা গড়ে তুলেছ।’
তখন থেকে আনন্দী শ্বশুরবাড়িতে সকলের আদরের পাত্রীতে পরিণত হল।

0 comments:

Post a Comment