July 24, 2008

যাঁদের হারিয়েছি

বিগত ২০০৭ সালে আমরা অত্যন্ত কাছের মানুষ এবং নওগাঁ অন্ত-প্রাণ দুজনকে হারিয়েছি। দুজনেই যেমন নিজের নিজের জগতে কৃতী ছিলেন - তেমনি নওগাঁর মুখ উজ্জ্বল করেছেন। সম্মিলনীর অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেল এদের প্রয়াণে।

একজন শ্রী অমিয় তরফদার [৭৮] অন্যজন শ্রী প্রবোধ মৈত্র [৭৪]

শ্রী অমিয় তরফদার একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আলোকচিত্র শিল্পী। নওগাঁর কে. ডি. স্কুলের ছাত্র। এবং স্কুলের পাশেই তাঁর বাড়ি। যদিও গ্রামের বাড়ি ছিল নওগাঁর কাছেই রসুলপুর গ্রামে। তাঁর কোলকাতার পার্কসার্কাসে ক্যামেলিয়া স্টুডিও একদা খুবই নামকরা ফটোগ্রাফিক দোকান ছিল। আর কোলকাতার নওগাঁ সম্মিলনীর অফিস ছিল। অনেক মিটিং কার্যপন্থা এখান থেকে শুরু ও নিয়ন্ত্রিত হোত। তাঁর নিজস্ব উৎসাহ ও উদ্দীপনায়।
আলোকচিত্র শিল্পী হিশেবে তিনি বহু জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানে যোগদান করেছেন-বিশেষ করে খেলাধুলা প্রতিযোগিতায়। একই সঙ্গে বহু প্রতিযোগিতায় পুরস্কৃত হয়েছেন অসামান্য সব ফটোগ্রাফির জন্য।

শ্রীপ্রবোধ কুমার মৈত্রর জন্মস্থান নওগাঁ এবং দেশবিভাগ পর্যন্ত পড়াশুনা করেছেন নওগাঁর কে.ডি. স্কুলে। পরে কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এ [স্কটিশচার্চ] ও এম. এ পাশ করেন। দীর্ঘদিন কাজ করেছেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরে। এই সময়ে তাঁর অন্যতম কাজ ‘নন্দন’ নামের সিনেমা কেন্দ্রটির স্থাপন ও পরবর্তী সময়ে পরিচালনা করা। মুখ্যমন্ত্রী শ্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য তাঁর স্মরণ সভায় এ বিষয়ে সপ্রশংস উল্লেখ করেন ও তাঁর স্মরণে উপযুক্ত পদক্ষেপের প্রস্তাব করেন।
এ ছাড়া তিনি দীর্ঘদিন কোলকাতা ফিল্ম সোসাইটির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এবিষয়ে তিনি খুবই অগ্রণী ব্যক্তি ছিলেন ও ফিল্ম সোসাইটি আন্দোলনের পুরোধা ছিলেন। সত্যজিৎ রায়ের সত্তর বছর পূর্তি উপলক্ষে ‘নন্দন’ এর পক্ষ থেকে একটি মনোগ্রাহী গ্রন্থ সম্পাদনা ও প্রকাশনা করেন। ভারতে ‘সিনেমার শতবর্ষ’ উপলক্ষেও একটি বিশাল গ্রন্থ সম্পাদনা ও প্রকাশ করেছিলেন। শ্রদ্ধেয় সত্যজিৎ রায়ের সঙ্গে তাঁর সখ্যতা বহুজন বিদিত; সত্যজিৎ এর উপর একটি কোষ প্রকাশের আয়োজন করেছিলেন। কিন্তু হঠাৎ প্রয়াণে ও তাঁর আগের অসুস্থতায় সেটি সম্পন্ন করে যেতে পারেন নি। তিনি সিনেমা সংক্রান্ত পঠন-পাঠন নিয়ে যুক্ত ছিলেনÑকোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং নন্দনে।
নির্মল মৈত্র, কলকাতা-৭০০-০৭৫

0 comments:

Post a Comment