July 24, 2008

মুকুল বসুর দুটি কবিতা

শামসুর রাহমান

শামসুর রাহমান চলে গেলে
নদীর জল মোহনার মোড়ে থেমে থাকে।
শহরে গ্রামে দফায় দফায় লোডশেডিং হয়,
কবিতার জীবন রেখায় বর্ধমান ফাটল জাগে।

শাসসুর রাহমান চলে গেলে
রবি শংকরের সেতারে তাল কাটে,
পূর্ণিমার চাঁদে আচমকা গ্রহণ লাগে।
মৌমাছি আর মধু ভাণ্ড খোঁজে না।

শামসুর রাহমান চলে গেলে
মুখ ভার করে দুই বাংলা সীমান্তে জড়ো হয়।
কাঁটাতারের বেড়ায় হাত বুলিয়ে
ভালবাসার পরশ-পাথর খোঁজে।

শামসুর রাহমান থেকে গেলে
একুশ ফেব্রুয়ারীর অপার্থিব ভোর নামে।
কলকাতার ময়দান আর রমনার মাঠে
প্রথম প্রেমের রোমাঞ্চ লাগে

শামসুর রাহমান থেকে গেলে,
শিশুদের রঙিন হাততালি
ছুঁয়ে যায় উড়ন্ত পাখির ডানা।
ঘাসফুল আকাশ খোঁজে।

তারায় তারায় দেখা হলে
মাটিতে চলো মন্ত্র বাজে,
দুই বাংলায় চরণ রেখে
শামসুর রাহমান কবিতা পড়ে।

স্বপ্নের সাথে

মালঞ্চ মালা, ভোরের স্বপ্ন কই,
দিগন্তজুড়ে ঘনায় কাজল ছায়া
এলোমেলো মন কোথাও পায় না থই,
সারারাত জাগে কান্নাজড়ালো কারা।

আগুনের পথ আমাদের রথ, সখা
কুঞ্জে বাজে না বৃন্দাবনের বাঁশি;
এখানে রাতের তারাদের মুখ ঢাকা
ঠোঁটের দুপাশে রক্ত জড়ানো হাসি।

ঝড়ের মাতন আমাদের বুকে জমে,
আমরা বনেছি স্বপ্নের ফেরিঅলা,
আমাদের দেখে সাগরের ঢেউ কমে,
স্বপ্নের সাথে রাখী-বাঁধি ভোরবেলা।

0 comments:

Post a Comment